বুধবার জানুয়ারি ২৭, ২০২১ || ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

উইন্ডিজ সিরিজে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেবেন নির্বাচকরা

খবর২৪ডেস্ক

করোনাকালে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের পর বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের সফল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মনোযোগ বোর্ডের। আগামী ১০ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল তিনটি ওয়ানডে এবং দুটি টেস্ট খেলতে ঢাকায় আসবে। ওই সিরিজের জন্য ৭ জানুয়ারি অনুশীলন শুরু করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জানুয়ারির শুরুতেই তাই ঘোষণা করা হবে প্রাথমিক দল।

বিসিবির নির্বাচকরা জানিয়েছেন, করোনার কারণে ওয়ানডে সিরিজের দলে দুইজন ক্রিকেটার বেশি রাখবেন তারা। কারণ ইনজুরি বা অন্য কোন কারণে বায়ো বাবল থেকে কেউ বের হয়ে যেতে পারেন। সেখানে নতুন কাউকে যোগ করা কঠিন হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু কাপে টি-২০ খেলেছেন ক্রিকেটাররা। উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে তাই ক্রিকেটারদের মানিয়ে নিতে অসুবিধা হবে না বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

তবে এই সিরিজে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা কম বলেও দিয়েছেন ইঙ্গিত। বরং পরীক্ষিত ক্রিকেটারদের করোনাকালে এই সিরিজে সুযোগ দিতে চায় বোর্ড। যাতে করে তারা সহজে মানিয়ে নিতে পারেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত মার্চের দলের ওপর রাখতে চান ভরসাও। তাই বলে তরুণদের উন্নতি থেকে চোখ সরিয়ে রাখছে না বোর্ড। তাদের উন্নতির পথ করে দিচ্ছে। এমনকি ২০২৩ বিশ্বকাপ সামনে রেখে বেশ কিছু তরুণ ক্রিকেটার তুলতে হবে সেটাও আছে ভাবনায়।

বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের অনুশীলন শুরু হবে ৭ জানুয়ারি। আমরা জানুয়ারির শুরুতেই প্রাথমিক দল ঘোষণা করে দেবে। এছাড়া করোনার প্রাদুর্ভাব মাথায় রেখে আমরা ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৭ জনের দল দেব। কারণ বায়ো-বাবলে নতুন করে কাউকে ঢোকানো কঠিন। টি-২০ টুর্নামেন্ট থেকে ওয়ানডের দল দেওয়া কঠিন। এছাড়া তরুণরা দীর্ঘদিন পরে টি-২০ খেলেছে। কেউ প্রথমবার খেলেছে। তাদের মধ্যে কে কোন ফরম্যাটে ভালো সেটা বুঝতে আমাদের তাই আরও সময় নিতে হবে।’

বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলের হেড কোচ টবি রেডফোর্ডও মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আনার আগে এই তরুণদের নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। এমনকি জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও তরুণদের আরও পরিপক্ক হওয়ার দিকে মন দিচ্ছেন। টবি বলেছেন, ‘কিছু ক্রিকেটার আছে, যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কালই তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারে। কিন্তু তাদের আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ আছে। তাদের ফিট হতে হবে। কিছু টেকনিক্যাল বিষয় নিয়েও কাজ করতে হবে। তিন ফরম্যাটেই আমরা এখান থেকে টেকনিক্যালি ফিট ক্রিকেটার পাবো বলে আশা করছি।’

টবির মতে, পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগে তরুণদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আনা ঠিক নয়। দ্বিতীয় ব্যাপার হলো তাদের অনেকে কেবল বাংলাদেশের কন্ডিশনে ভালো করছে। কিন্তু জাতীয় দলে আনার আগে তাদের ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকায় কিভাবে পারফরম্যান্স করতে হয় সেটা শিখতে হবে। যেকোন প্রান্তে যেন ক্রিকেটাররা ভালো করতে পারে সেই দিকটা নিয়ে তিনি তাই কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পরে রাসেল ডমিঙ্গো বেশ কিছু তরুণকে তুলে এনেছেন। নাঈম শেখ, নাঈম হাসান, মাহেদি হাসান, আফিফ হোসেন, আমিনুল ইসলামরা তাদের অন্যতম। পেসার শরিফুল ইসলাম, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান পারভেজ ইমনকেও মনে ধরেছে তার। তবে হাই পারফরম্যান্স কোচ টবির সঙ্গে একমত ডমিঙ্গো। তাদের আরও প্রস্তুত হতে হবে।

ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু কাপে কিছু তরুণ সত্যিই খুব ভালো করেছে। শরিফুল দারুণ বোলিং করেছে। পারভেজ ইমন সেঞ্চুরি পেয়েছে। তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ঘরোয়া টি-২০ টুর্নামেন্ট এবং আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটের মধ্যে অনেক পার্থক্য। তাদের তৈরি হতে সময় দেওয়ার ব্যাপারটা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাতে করে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসেই মানিয়ে নিতে পারে এবং শক্তিশালী এই দলটার সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *