বৃহস্পতিবার অক্টোবর ১, ২০২০ || ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অপরিকল্পিত ঋণের দায়ে ভারসাম্যহীন আয়-ব্যয়

খবর২৪ডেস্ক

অপরিকল্পিত ঋণের দায়ভার সরকারকে নিতে হচ্ছে। এতে করে সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্ভব হচ্ছে না সরকারের ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করা। আর এতে বাজেট শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছে খোদ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়ন সাধারণত অর্থবছরের প্রথমার্ধে ধীরগতিতে চলে। অর্থবছরের শুরুর দিকে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যেমন ধীরগতি পরিলক্ষিত হয় তেমনি বেতন-ভাতা ব্যতীত অন্যান্য আইটেমের বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণও কম থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মেরামত ও সংরক্ষণ, নির্মাণ ও পূর্ত এবং মালামাল ক্রয়-সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষ দিকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। উপরন্তু, বছরের শেষে এসে সরকারকে অপরিকল্পিত ঋণের দায়ভার গ্রহণ করতে হয়। ফলে বাজেটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায় না।’

এই শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য এবারো অন্যবারের মতো প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও ত্রৈমাসিকভাবে বাজেট বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করা হবে। সোমবার বিকেলে অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও প্রান্তিক শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠানোর জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার একটি প্রধান কারণ রাজস্ব আহরণ ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকা। জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত বাজেট সুষ্ঠুভাবে সময়মতো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে অপরিকল্পিত সরকারি ঋণ এড়ানো এবং ঋণজনিত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।’

পরিপত্রে আরো বলা হয়, ‘এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেটের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থবছরের শুরুতে একটি বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, যথাযথভাবে উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বাজেট বাস্তবায়নের নিয়মিত পরিবীক্ষণ করা প্রয়োজন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ যাতে বাজেট বাস্তবায়নের একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও পদ্ধতিসহ ফরম করা হয়েছে। উক্ত নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা একান্ত জরুরি। ’

রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনার বিষয়ে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন আইটেমের বিপরীতে ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে কোয়ার্টারভিত্তিক রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। কোনো আইটেমের রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক হ্রাসবৃদ্ধির রেকর্ড থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইটেমের বিপরীতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।’

ব্যয়ের পরিকল্পনায় পরিপত্রে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, ‘বেতন-ভাতাদিসহ যেসব আইটেমের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ সাধারণত সমানুপাতিক হারে পরিশোধ-ব্যয়িত হয়ে থাকে সেসব আইটেমের বিপরীতে কোয়ার্টারভিত্তিক ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা সমানুপাতিক হারে নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে কর্মকর্তাদের বেতনের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির আর্থিক সংশ্লেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। ’

প্রত্যেক মাসের ৩য় সপ্তাহের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের সব ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রত্যেক কোয়ার্টারে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ প্রদর্শন করতে হবে।

অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টার হতেই মেরামত ও সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এমনভাবে শুরু করতে হবে যেন অর্থবছরের বিভিন্ন কোয়ার্টারে মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের বিল মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিশোধ করা যায় এবং অর্থবছরের শেষ কোয়ার্টারে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে বিল পরিশোধের চাপ সৃষ্টি না হয়।

পরিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি আয়-ব্যয়ে একটি সুষ্ঠু ভারসাম্য আনার জন্য এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দেখা যায়, অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অর্থবছরের শুরুতে কাজ না করে বছরের শেষে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু ও সমাপ্ত করে। এতে করে ব্যয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হ

 

অপরিকল্পিত ঋণের দায়ভার সরকারকে নিতে হচ্ছে। এতে করে সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্ভব হচ্ছে না সরকারের ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করা। আর এতে বাজেট শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছে খোদ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়ন সাধারণত অর্থবছরের প্রথমার্ধে ধীরগতিতে চলে। অর্থবছরের শুরুর দিকে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যেমন ধীরগতি পরিলক্ষিত হয় তেমনি বেতন-ভাতা ব্যতীত অন্যান্য আইটেমের বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণও কম থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মেরামত ও সংরক্ষণ, নির্মাণ ও পূর্ত এবং মালামাল ক্রয়-সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষ দিকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। উপরন্তু, বছরের শেষে এসে সরকারকে অপরিকল্পিত ঋণের দায়ভার গ্রহণ করতে হয়। ফলে বাজেটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায় না।’

এই শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য এবারো অন্যবারের মতো প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও ত্রৈমাসিকভাবে বাজেট বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করা হবে। সোমবার বিকেলে অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও প্রান্তিক শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠানোর জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার একটি প্রধান কারণ রাজস্ব আহরণ ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকা। জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত বাজেট সুষ্ঠুভাবে সময়মতো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে অপরিকল্পিত সরকারি ঋণ এড়ানো এবং ঋণজনিত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।’

পরিপত্রে আরো বলা হয়, ‘এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেটের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থবছরের শুরুতে একটি বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, যথাযথভাবে উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বাজেট বাস্তবায়নের নিয়মিত পরিবীক্ষণ করা প্রয়োজন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ যাতে বাজেট বাস্তবায়নের একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও পদ্ধতিসহ ফরম করা হয়েছে। উক্ত নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা একান্ত জরুরি। ’

রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনার বিষয়ে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন আইটেমের বিপরীতে ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে কোয়ার্টারভিত্তিক রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। কোনো আইটেমের রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক হ্রাসবৃদ্ধির রেকর্ড থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইটেমের বিপরীতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।’

ব্যয়ের পরিকল্পনায় পরিপত্রে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, ‘বেতন-ভাতাদিসহ যেসব আইটেমের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ সাধারণত সমানুপাতিক হারে পরিশোধ-ব্যয়িত হয়ে থাকে সেসব আইটেমের বিপরীতে কোয়ার্টারভিত্তিক ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা সমানুপাতিক হারে নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে কর্মকর্তাদের বেতনের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির আর্থিক সংশ্লেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। ’

প্রত্যেক মাসের ৩য় সপ্তাহের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের সব ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রত্যেক কোয়ার্টারে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ প্রদর্শন করতে হবে।

অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টার হতেই মেরামত ও সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এমনভাবে শুরু করতে হবে যেন অর্থবছরের বিভিন্ন কোয়ার্টারে মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের বিল মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিশোধ করা যায় এবং অর্থবছরের শেষ কোয়ার্টারে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে বিল পরিশোধের চাপ সৃষ্টি না হয়।

পরিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি আয়-ব্যয়ে একটি সুষ্ঠু ভারসাম্য আনার জন্য এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দেখা যায়, অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অর্থবছরের শুরুতে কাজ না করে বছরের শেষে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু ও সমাপ্ত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *