বৃহস্পতিবার ডিসেম্বর ৩, ২০২০ || ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অধিনায়ক তামিমের লক্ষ্য বড় দলকে হারানো

খবর২৪ডেস্ক

বাংলাদেশ ওয়ানডে দলে মাশরাফির উত্তরসূরি করা হয়েছে তামিমকে। গত ৮ মার্চ নতুন নেতা নির্বাচন করা হলেও গতকালই প্রথম মিডিয়ার মুখোমুখি হলেন টাইগার নতুন অধিনায়ক। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে বাঁহাতি এ ওপেনার জানান, লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়ায় নেতৃত্ব এসেছেন তিনি। ওয়ানডে দল নিয়ে নিজের লক্ষ্য  উদ্দেশ্য সম্পর্কেও খোলামেলা কথা বলেছেন তামিম

অধিনায়কত্ব নেওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ?

তামিম: এটা একটা সম্মিলিত প্রক্রিয়া। অধিনায়কত্ব নেওয়ার পেছনে একটা কারণ ছিল। আমি চাচ্ছিলাম লম্বা সময়ের জন্য। লম্বা সময় পেলে দলকে একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। আমাদের একটা বড় ম্যাচ জেতা খুব জরুরি। আমার প্রথম লক্ষ্য থাকবে, কোনো একটি বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতা। সেটা যতদ্রুত সম্ভব হবে ততই ভালো।

মাশরাফি বলছিলেন- বাইরের চাপ না নিলে ভালো অধিনায়ক হবেন।

তামিম: সত্যি বলতে আমি খুব অভিজ্ঞ অধিনায়ক নই। এ কারণে একটু সময় দিতে হবে আমাকে। একটি সিরিজ বা পাঁচ-ছয় ম্যাচ দিয়ে বিচার করা কঠিন। কারণ অধিনায়কত্ব একেবারে ভিন্ন একটা ব্যাপার। আমি এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে নেতৃত্ব পেয়েছি, যার অধীনে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। সোজাসুজি উনার পর্যায়ে চলে যেতে পারলে ভালো। আর যেতে না পারলে আমাকে কিছু সময় দিতে হবে।

‘অফ দ্য ফিল্ড’ স্কিল কেমন থাকবে?

তামিম: কিছু কিছু জিনিস আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে যেমন ‘টিম কালচার’। আমরা মাঠের বাইরে কীভাবে চিন্তা করছি বা কতটা পেশাদার আমরা। ওই জায়গায় কীভাবে আরও উন্নতি করতে পারি, সেটাই হবে আমার প্রথম কাজ। আমি যখন ভাবি কীভাবে এই দলকে সামনে এগিয়ে নেব, তখন প্রথম জিনিসই আমার মাথায় আসে ‘অফ দ্য ফিল্ড’-এর বিষয়গুলো সবার আগে ঠিক করতে হবে।

‘অন ফিল্ড’ নেতৃত্ব কৌশল কী হবে?

তামিম: আমি আক্রমণাত্মক থাকতেই পছন্দ করি। সবকিছু দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি আপাতত এতটুকু বলতে চাই, এক্ষেত্রে আপনারা একটু ধৈর্য রাখবেন। আর যদি ছয় মাস, এক বছর কিংবা দেড় বছরে যদি দলের জন্য কিছু করতে না পারি তাহলে অবশ্যই এই দায়িত্ব ছেড়ে দেবো।

অধিনায়ক তামিমের স্বপ্নগুলো কী?

তামিম: আমি যদি বলি সেরা তিন দলের একটি হতে চাই… এটি অনেক লম্বা একটা প্রক্রিয়া। বলার জন্য এটা বলতে চাই না। এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ছোট ছোট জিনিসগুলোতে উন্নতি করা। ট্রেনিংয়ে আরও ভালো করা, দল হিসেবে খেলা এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া চিন্তা না করে ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করা। এগুলো ঠিক হলে বাকি সব এমনিতেই আসবে।

মাশরাফির কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনা?

তামিম: একদিক থেকে আমি খুব ভাগ্যবান, উনার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কাছ থেকে অনেক কিছু দেখেছি। একসঙ্গে অনেক ম্যাচ খেলেছি। উনার চিন্তা সম্পর্কে একটু হলেও জানি। আমি চেষ্টা করব, যতটা সম্ভব উনার কাছ থেকে নেওয়ার। কখনও বিপদে পড়লে প্রথমে উনার কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করব।

জুনিয়রদের ব্যাপারে আপনার কৌশল কী হবে?

তামিম: সবাইকে একভাবে ট্রিট করা সম্ভব নয়। একেকজনকে একেক ভাবে ট্রিট করে ভালো ফল বের করে আনা সম্ভব। এগুলোই কিন্তু মাঠের বাইরের কাজ। এই জিনিসগুলো যত তাড়াতাড়ি দল হিসেবে নিশ্চিত করব, ততই ভালো।

জুনিয়রদের কাছ থেকে কেমন পারফরম্যান্স চান?

তামিম: খালি জুনিয়র নয়, সিনিয়র খেলোয়াড়দেরও উন্নতি করার অনেক জায়গা আছে। লিটন ছয় মাস আগেও যেভাবে চিন্তা করত, এখন যেটা করে, তাতে অনেক পার্থক্য। এর প্রতিফলন মাঠেও পড়ছে। তরুণ ক্রিকেটাররা ইতিবাচক চিন্তা করে। তারা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। আমরা আরও কাছাকাছি যেতে পারলে দলের ভালো হবে।

মাশরাফি তো টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবি কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে সেরাটা আদায় করে নিতেন?

তামিম: আমার যদি ১০টি ভালো গুণ থাকে, কিন্তু দল ভালো না করে, ওই ১০টি ভালো গুণ কখনও সামনে আসবে না। নেতিবাচকগুলোই সামনে আসবে। মাশরাফি ভাইয়ের ২০টি ভালো গুণ ছিল। তার দল ভালো করেছে। নিজেও ভালো করেছেন। যখন দল ভালো করে, অধিনায়ক নিজে ভালো করেন, তখন তার সব ভালো গুণ সামনে চলে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *