বৃহস্পতিবার ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ || ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রবাসী সাহিদুজ্জামান টরিকের গাড়ি চালিয়ে নতুন বিতর্কে মিজানুর রহমান আজহারী

খবর২৪ডেস্ক

সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না মিজানুর রহমান আজহারীর।
আলোচনা-সমালোচনার উত্তপ্ত মুহূর্তে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত কয়েকটি ‘তাফসিরুল কুরআন’ মাহফিল স্থগিত করে গবেষণার কাজে মালয়েশিয়া চলে গেছেন সময়ের আলোচিত ইসলামী এই বক্তা। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে আজহারীর বিলাসবহুল গাড়ি চালানোর কিছু দৃশ্য। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মিজানুর রহমান আজহারী একটি ‘বেন্টলি’ গাড়ি চালাচ্ছেন, বাংলাদেশী টাকায় যার বাজারমূল্য কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা।

ছবিগুলো বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ‘নাইদরেইনস’ নামে এক আইডি থেকে পোস্ট করে নানা প্রশ্ন ছোড়া হচ্ছে, ‘ইসলামের একজন দাঈ হয়ে মালয়েশিয়ায় কী করে এত দামি গাড়ি কেনেন আজহারী? মাহফিলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: ও সাহাবাদের ত্যাগী, সাদাসিধে জীবনের কথা বলে সেখানে কি তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন?’

সমালোচনাকারীরা বলছেন, দেশে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেই মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন আজহারী। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজহারীভক্তদের সাথে তার সমালোচনাকারীরা তুমুল বাগি¦তণ্ডায় মেতেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বিলাসবহুল গাড়ি আজহারীর নয় এবং তিনি মালয়েশিয়ায় গিয়ে এ গাড়ি চালাননি। ছবিগুলো তার সম্প্রতি তোলাও নয়। মূলত এ গাড়িটি আজহারী চালিয়েছেন সিঙ্গাপুরে। আর গাড়ির মালিকের নাম মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান টরিক। এ ছাড়া বেশ কয়েকজনের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, আজহারী যে পোশাক পরে গাড়িটির ড্রাইভিং সিটে বসে আছেন, ঠিক একই রঙের পোশাকে তিনি ব্যবসায়ী সাহিদুজ্জামান টরিকের সাথেও একটি ছবি তুলেছেন, যা থেকে প্রমাণ হয় ছবিটি সে সময়ে সিঙ্গাপুরে তোলা। এ ছাড়া আজহারী যে গাড়ি চালিয়ে সমালোচিত হয়েছেন, ওই একই গাড়ির ড্রাইভিং সিটে সিঙ্গাপুর প্রবাসী ব্যবসায়ী সাহিদুজ্জামান টরিককেও দেখা গেছে, যা সুমন পারভেজ নামের চুয়াডাঙ্গার এক ব্যবসায়ী তার ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেন।

সাহিদুজ্জামান টরিকের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সাহিদুজ্জামান টরিক সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি। তার দেশের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের মুক্তিপাড়ায়। চুয়াডাঙ্গায় এক মাহফিল আয়োজনবিষয়ক আলোচনার জন্য ছয়-সাত মাস আগে ব্যবসায়ী টরিকের আমন্ত্রণে সিঙ্গাপুরে যান মিজানুর রহমান আজহারী। সে সময় সেখানে ব্যবসায়ী টরিকের এই গাড়িতে চড়ে সিঙ্গাপুরে ঘুরেছেন তিনি। এ সময় আজহারী নিজেও কিছু সময়ের জন্য গাড়িটি চালান। সে সময় তোলা সেসব ছবিই মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
ওই গাড়ির নেমপ্লেট দেখলেই বোঝা যায় এটি মালয়েশিয়ার কোনো গাড়ি নয়। এখানে ঝঔত৮৮৮ওজ লেখা। আর এমন নেমপ্লেট সিঙ্গাপুরের গাড়িগুলোরই হয়ে থাকে। একুশে টিভির অপরাধবিষয়ক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ’-এর সাবেক উপস্থাপক, বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন তার ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আজহারীর দামি গাড়ি নিয়ে যাদের চুলকানি উঠছে, তাদের কাছে প্রশ্ন, আজহারী কি ফকিন্নির পোলা নাকি? আজহারী কি কুরবানীর চামড়ার খয়রাতির টাকায় পড়াশোনা করছে? বাপের টাকায় বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করছে। গাড়িটা যদিও আমাদের চুয়াডাঙ্গার ছেলে টরিক ভাইয়ের, তারপরেও যদি আজহারীর হয়ে থাকে, তাহলে বলব, জমিদারের পোলার গাড়ি তো এ রকম দামি ব্র্যান্ডের হয়, তাই না?’
এ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা প্রেস কাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজার চৌধুরীও তার ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ভালো বক্তা হিসেবে অল্পসময়ে খ্যাতি পাওয়া মিজানুর রহমান আজহারীর মালয়েশিয়া ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনেকের মতো আমিও খুশি।

গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজহারীর দামি গাড়ি নিয়ে যে খবরটি ছড়িয়েছে, তা দেখে দু-লাইন না লিখে থাকতে পারলাম না। ছবিটি সত্যি। তবে ছবিতে যে গাড়িটি দেখা যাচ্ছে, সেটি মিজানুর রহমান আজাহারীর নয়। কারণ, এই গাড়ির মালিককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। ছবি দেয়া হলো, যাদের প্রয়োজন নম্বর মিলিয়ে নিন। বেন্টলি এই গাড়িটির মালিক সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সাহিদুজ্জামান টরিক, আমাদের চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান। গুজব ছড়ানোর আগে একবার ভাবুন। গুজবে লবণের কেজি ২০০ টাকা বানিয়েছেন, সচেতন হোন। নিরাপদে থাকুন… জয় বাংলা।’ তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, ‘ছবিগুলো সুমন পারভেজ (ঝঁসড়হ চধৎাধম)-এর টাইম লাইন থেকে সংগৃহীত। কারণ, বেন্টলি ঝঔত৮৮৮ওজ নেমপ্লেট-সংবলিত গাড়িটি ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর প্রথমবার মালিকসমেত ফেসবুক ওয়ালে দেখা যায়। যেটি চুয়াডাঙ্গার একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী সুমন পারভেজ প্রকাশ করেন।’

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারীর সাথে ব্যবসায়ী সাহিদুজ্জামান টরিকের বন্ধুত্ব রয়েছে। ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম কওমিয়া হাফেজিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন মিজানুর রহমান আজহারী। ওই মাহফিলে আলোচনার শুরুতে আজহারী বলেছিলেন, ‘এ মাহফিলের আয়োজক সাহিদুজ্জামান টরিক আমার বড় ভাই। তিনি একজন শিল্পপতি ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি। সিঙ্গাপুর গেলে আমি তার কাছেই থাকি। গত কোরবানি ঈদে সেখানে তার তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকটি ইসলামী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।’

জানা গেছে, পিতার প্রতিষ্ঠিত পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম কওমিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার পরিচালক ব্যবসায়ী সাহিদুজ্জামান টরিক। এ মাদরাসায় ৩০০ এতিম ছাত্র সাহিদুজ্জামান টরিক ও তার পরিবারের সদস্যদের টাকায় থাকা-খাওয়াসহ পড়াশোনা করে। এ মাদরাসার খরচ চালাতে চুয়াডাঙ্গা শহরে ‘হোটেল সাহিদ প্যালেস’ নামের থ্রি-স্টার মানের একটি হোটেলও তৈরি করে মাদরাসার নামেই ওয়াক্ফ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ী টরিক। এলাকায় তিনি দানবীর হিসেবেই পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *