বৃহস্পতিবার জানুয়ারি ২১, ২০২১ || ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মনোহরদীতে পুঁজি হারাতে বসেছেন হ্যাচারি মালিকগণ

খবর২৪ডেস্ক
মুরগীর খাদ্য, ওষুধের দাম বৃদ্ধি এবং পবিত্র ঈদুল আজহা সন্নিকটে থাকার কারণে লোকসানের মুখে পড়েছে হ্যাচারি শিল্প। ব্যবসায় লোকসানের সম্ভাবনা থাকায় বাচ্চা তুলছেন না খামারিরা। ফলে আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে একদিনের বাচ্চার দাম। আর লোকসানের কারণে পুঁজি হারাতে বসেছেন হ্যাচারির মালিকগণ।

মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ২০১২ সালে গড়ে উঠেছে পোল্ট্রি হ্যাচারি শিল্প ‘দোলা অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স’। শুরুতে এ প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখলেও সাম্প্রতিক সময়ে চরম লোকসানের দিকে রয়েছে এই হ্যাচারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। গত মাসে এই হ্যাচারিতে আড়াই লাখ বাচ্চা উৎপাদন করলেও এ মাসে মাত্র দেড় লাখ বাচ্চা উৎপাদন করতে হচ্ছে। এভাবে অব্যাহত আর্থিকভাবে লোকসানের দিকে যেতে থাকলে হ্যাচারি বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

দোলা পোল্ট্রি হ্যাচারির সত্ত্বাধিকারী আবুল ফজল জামান জানান, আমরা একদিনে বাচ্চা উৎপাদন করি। এসব বাচ্চা গুদামজাত করতে পারি না। যেদিন উৎপাদন হয় সেদিনই পোল্ট্রি খামারিদের কাছে বিক্রি করতে হয়। তাছাড়া চাহিদা কম থাকলে দুই-তিন দিন পর পর বাচ্চা উৎপাদন করি। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় পোল্ট্রি মোরগের চাহিদা কমে যাবে। আর তাতে খামারিরা লোকসানে পড়তে পারেন ভেবে এখন বাচ্চা নিচ্ছেন না। ফলে একদিনেই উৎপাদিত বিপুল সংখ্যক বাচ্চা নিয়ে হ্যাচারির মালিকরা মহা বিপাকে পড়ে গেছেন।

দোলা পোল্ট্রি হ্যাচারির ব্যবস্থাপক জেসমিন আক্তার বলেন, একটি বাচ্চা উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা খরচ পড়ে ২২ টাকা। সেখানে প্রতি বাচ্চা দুই টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু বাচ্চাগুলো ব্যবসায়ী অথবা খামারির কাছে পৌঁছতে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাবদ এই দুই টাকা চলে যায়। এতে গত দুই মাসে আমাদের হ্যাচারি থেকে প্রায় এক কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। আমাদের মতো মুরগীর বাচ্চা উৎপাদনকারীরা ক্রমাগত লোকসানের দিতে গিয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি মুরগীর বাচ্চা ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বীরগাঁও চৌরাস্তা বাজারের মুরগীর বাচ্চা ও খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আখি পোল্ট্রি ফিড’ এর সত্বাধিকারী আবুল কালাম বলেন, পোল্ট্রি ব্যবসায় আমার ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় হ্যাচারি শিল্পে এমন মন্দাভাব কখনো দেখিনি। এভাবে চলতে থাকলে হ্যাচারি মালিকদের পাশাপাশি আমাদের মতো ব্যবসায়ীরাদেরও পথে বসতে হবে। পোল্ট্রি ব্যবসায় অব্যাহত লোকসানের কারণে বিভিন্ন খামারিদের কাছে আমার প্রায় ২৫ লাখ টাকা পড়ে আছে। খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের কাছে টাকা চাইতেও পারি না।

শুকুন্দী বালিয়াকান্দা গ্রামের পোল্ট্রি খামারী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার এক হাজার মোরগের সেট রয়েছে। গত ছয়মাস ধরে কোনো লাভের মুখ দেখিনি। বাচ্চার দাম কম থাকলেও খাদ্য ও ওষুধের দাম অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় লাভ পাই না। গত পাঁচটা ব্যাচে আমি প্রায় একলাখ টাকা পুঁজি হারিয়েছি।

মনোহরদী উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আবু হানিফ বলেন, গত বছর ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চার দাম বেশী থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট উদ্যোক্তারা হ্যাচারি গড়ে তোলায় বাচ্চার দাম কমে গেছে। তাছাড়া ব্রয়লার মুরগের দাম কেজিতে একশ টাকার নিচে থাকায় খামারিরা লাভ না পাওয়ায় নতুন করে বাচ্চা তুলতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সে কারণেও বাচ্চার দাম কমে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *