বৃহস্পতিবার এপ্রিল ১৯, ২০১৮ || ৬ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নিকলীতে এনজিও কর্মকর্তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

খবর২৪ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সুলতান মিয়া (৫২) নামের এক এনজিও কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার মধ্যরাতে উপজেলার ছাতিরচর বাজারে রংধনু সঞ্চয় ও সমবায় সমিতির কার্যালয় থেকে তাঁর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

নিহত সুলতান মিয়া গুরুই পালপাড়া গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে।

জানা গেছে, সুলতান মিয়া রংধনু সঞ্চয় ও সমবায় সমিতির পরিচালক ছিলেন। তিনি ছাতিরচর ও গুরুই এলাকায় দুটি অফিস স্থাপন করে তাঁর সংস্থার ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। রবিবার তিনি চার লাখ টাকা নিয়ে ছাতিরচর কার্যালয়ে যান। ঘটনার পর থেকে এ অফিসের ম্যানেজার হিজবুল্লাহকে পাওয়া যাচ্ছে না। হিজবুল্লাহ ছাতিরচর গ্রামের উত্তরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই সুলতানকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, লাশের গলায় একটি গামছা পেঁচানো ছিল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এলাকার আট ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্র বলছে, রবিবার দুপুরে চার লাখ টাকা নিয়ে ছাতিরচরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন সুলতান। সাধারণত তিনি বিকেলে বাড়ি ফিরে যান। বিকেলে বাড়ি না ফিরে যাওয়ায় তাঁর স্ত্রী সুলতানকে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পান। এরপর তিনি ছাতিরচর অফিসের ম্যানেজার হিজবুল্লাহকে ফোন দেন। হিজবুল্লাহ তাকে জানান, দুপুর ২টার দিকে তিনি সুলতানকে নৌকায় তুলে দিয়েছেন।

রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সুলতান বাড়ি ফিরে না যাওয়ায় তার স্ত্রী এলাকার কয়েকজন লোক নিয়ে ছাতিরচর গিয়ে ম্যানেজার হিজবুল্লাহকে আর পাননি। পরে অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তারা। সেখানে চৌকির নিচে মুখ বাঁধা অবস্থায় একটি বস্তা দেখতে পান। ওই বস্তার মধ্যেই পাওয়া যায় সুলতানের মৃতদেহ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশের ধারণা, সুলতানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। রাতের কোনো এক সময় বস্তাবন্দি লাশটি নদীতে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল দুর্বৃত্তদের। কিন্তু এ সুযোগ আর পাননি তারা।

নিকলী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে সুলতানকে। তার টাকাগুলোও পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আজ সোমবার কিশোরগঞ্জ জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত সুলতানের বড় ভাইয়ের ছেলে রেজাউল কবির বাদী হয়ে হিজবুল্লাহকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এতে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

ওসি বলেন, সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়া এলাকার কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *