শুক্রবার এপ্রিল ২০, ২০১৮ || ৭ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে উল্টো মামলার হুমকি ফিলিপাইনের

খবর২৪ডেস্ক
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফিলিপাইনের ব্যাংক আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করার কথা গত সপ্তাহে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরেই ফিলিপাইনের ওই ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ বিবৃতি দেয় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি)।

বিবৃতিতে বলা হয়, আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। ব্যাংকটির অভিযোগ, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় বাংলাদেশে থাকা আরসিবিসির স্থানীয় ঋণদাতার বিরুদ্ধে অযথা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

আরসিবিসির বিবৃতিতে বলা হয়, দুই বছরের আগের এ সাইবার চুরির ঘটনায় আরসিবিসির হাত আছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের চিন্তাভাবনা চলছে। এটা দায়ের করার আমাদের অধিকার রয়েছে। ‘‘আমরা অব্যাহতভাবে আরসিবিসির বিরুদ্ধে অপবাদ রটানোর সুযোগ দিতে পারি না। তাদের নিজেদেরসহ অনেক প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে যে, এ ঘটনা ভেতর থেকে ঘটানো হয়েছে।’’ বলা হয় বিবৃতিতে।

গত বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বেঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামলাটি হবে নিউইয়র্কে। মামলায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আমাদের (বাংলাদেশ) পক্ষে কাজ করবে। একইদিনে বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আরসিবিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মামলা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা দায়েরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফিলিপাইনের ব্যাংকটির বক্তব্য হলো, অভিযোগের উত্তর দেওয়ার জন্য আরসিবিসি সম্পূর্ণরুপে প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত এখন নিজেদের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফল আদালতে জমা দেওয়া। তারা বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চালু রেখেছে। অন্যদিকে আরসিবিসিকে বলির পাঁঠা বানিয়ে নিজ দেশবাসীকে অন্ধকারে রেখে দিতে চাইছে তারা। ঢাকা ও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত নিজেদের পরিষ্কার রাখা এবং নিজ জনগণের সামনে জবাবদিহিতামূলক অবস্থানে দাঁড়ানো।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০১ মিলিয়ন (১০ কোটি ১০ লাখ) ডলার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা এবং ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে। এ ঘটনার প্রায় একমাস পর ফিলিপাইনের একটি পত্রিকার সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি বাংলাদেশ জানতে পারে। এ ঘটনা চেপে রাখতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন ড. আতিউর রহমান। বড় ধরনের রদবদল করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষপর্যায়ে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মানি লন্ডারিং আইনে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরির অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি এ পর্যন্ত ২০ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতের কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছে। সরকার থেকে রিজার্ভ চুরির বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনকে। ওই কমিটি অনেক আগেই তদন্ত প্রতিবেদন দিলেও এখনো তা প্রকাশ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *