সোমবার জানুয়ারি ২২, ২০১৮ || ৯ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শরীর ও মনের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি অনন্য উপায় – মেডিটেশন

খবর২৪ডেস্ক
স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। কথায় আছে- সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন। দেহের সুস্থতার প্রায় অনেকখানি নির্ভর করে মনের সুস্থতার উপর। এই ব্যস্ত জীবনে আমরা সবাই আমাদের পারিবারিক, কর্মক্ষেত্র বা পারিপার্শিক জীবন নিয়ে কিছু না কিছু হলেও চিন্তিত, বিষন্ন বা মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকি যা আমাদেরকে ধীরে ধীরে শারীরিকভাবেও অসুস্থ করে তোলে।

আমাদের সৌন্দর্যেও তার প্রভাব পড়ে ও আপনাকে করে তোলে মলিন। রাগ, দুঃখ, কষ্ট, ক্ষোভ, হতাশা জমেই তা পূর্ণাঙ্গ রূপে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অসুখ রূপে প্রকাশ পায়। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ও মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন, ব্যাকপেইন, উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়াবেটিকস, হৃদরোগ, গ্যাস্ট্রিকজনিত ও অন্যান্য ক্রনিক শারীরিক সমস্যা গুলো অনেকসময় মনের রোগেরই প্রতিফলন। তাই মন ও শরীরকে সুস্থ ও প্রানবন্ত করে তুলতে ধ্যান বা মেডিটেশন হয়ে উঠতে পারে একটি অনন্য উপায়।

মেডিটেশন মানসিক চাপ হ্রাস করে। মগজকে স্ক্যানিং করার উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে, গবেষকেরা দেখাতে সমর্থ হচ্ছেন যে ধ্যানচর্চা সরাসরি প্রভাব ফেলে মগজের গঠন ও কাজকর্মের ওপ। এবং এতে এমন পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব যাতে মনোযোগ বা অভিনিবেশ করার বিস্তৃতি বাড়ে, আত্মশক্তির জাগরণ ঘটে, ফোকাসকে তীক্ষ্ণ করে এবং স্নৃতিশক্তিকে উন্নত করে।

আর এই ধ্যান বা মেডিটেশন করতে হলে আপনার লাগবে একটা নির্মল/মোটামুটি শান্ত জায়গা আর মাত্র ১০ মিনিট সময়। আপনি চেয়ারে বসে অথবা,মাটিতে হাটু গেড়ে বসে অথবা চিত হয়ে শুয়ে করতে পারেন। আসলে যেভাবে বসলে সবচেয়ে আরাম হয় সেভাবেই বসা উচিত।

ধ্যান করার মূল ব্যাপারটা হল শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মন দেওয়া। পেট ভরে শ্বাস নিতে পারলে সবচেয়ে ভাল, খুব জোরে শ্বাস নেওয়ার কোন দরকার নেই।

পদ্ধতি :

  • একটি নির্মল/মোটামুটি শান্ত পরিবেশ নির্বাচন করুন।
  • চোখ বন্ধ করুন। সুন্দর কোন প্রকৃতি কল্পনা করুন যেখানে আপনি বসে আছেন। যেমনঃ ঝরনার পানি, পাহাড় ঘেরা বিস্তৃত একটি স্থান।
  • শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার উপর মনোনিবেশ করতে থাকুন।
  • ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। নাক দিয়ে শ্বাস নিন। ৫ সেকেন্ড দম ধরে থাকুন। তারপর মুখ দিয়ে আসতে আসতে শ্বাস ছাড়তে থাকুন।
  • ৪.প্রথমদিকে এই চর্চা ১০ মিনিটই যথেষ্ট। আপনার মনের উপরে নিয়ন্ত্রণ আসলে ধীরে ধীরে আপনি সময় বাড়িয়ে নিতে পারেন ১৫-৩০ মিনিট পর্যন্ত।

কি খুব সহজ না পদ্ধতিটি? এই চর্চা আপনি করতে পারেন যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে এবং নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যান। খুব শীঘ্রই দেখবেন মনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি একটা দরকারি অস্ত্র হয়ে উঠেছে এবং আপনার শরীর , মন ও চেহারাকে রাখছে প্রফুল্ল ও প্রানবন্ত এবং আপনার কর্মস্পৃহাকে বাড়িয়ে তুলেছে দ্বিগুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *