মঙ্গলবার ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ || ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

যে ৯ ধরনের লোকের স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি

খবর২৪ডেস্ক
এখন আমরা প্রায় সকলেই জানি যে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হয় রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোতে রক্ত জমাট বাধার ফলে। রক্ত জমাট বাধার ফলে দেহের এক অংশ থেকে অন্য অংশে রক্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

যার ফলে মারাত্মক রোগ-বালাই এবং ভয়াবহ কোনো পরিণতি ডেকে আনে। আর ৯ ধরনের লোকের দেহে রক্ত সবচেয়ে বেশি জমাট বাধে যার ফলে তাদের স্ট্রোক এবং হার্টাঅ্যাটাকের ঝুঁকিও বেশি থাকে। আসুন জেনে নেওয়া আপনিও ওই ৯ জনের একজন কিনা।

১. যাদের ওজন বেশি
যাদের দেহের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং দেহে চর্বির স্টোরেজ বেশি তাদের দেহে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকিও বেশি। কেননা চর্বির টিস্যূ রক্তের শিরা-উপশিরায় রক্ত জমাট বাধাতে সহায়ক।

২. যারা ধুমপান করেন
আমরা প্রায় সকলেই জানি যে, নিয়মিত ধুমপান করলে স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। কিন্তু আমরা হয়তো জানি না যে ধুমপানের ফলে রক্ত জমাটও বাধতে পারে। সিগারেটে থাকা টক্সিন এবং নিকোটিন রক্তের কোষগুলোকে শক্ত করে ফেলে এবং শিরাগুলোকে সংকুচিত করে ফেলে। যার ফলে রক্ত জমাট বাধে।

৩. গর্ভবতী নারী
গর্ভধারনের সময় একজন নারীর দেহে প্রচুর পরিমাণে হরমোনগত পরিবর্তন এবং ওঠা-নামা ঘটে। গর্ভধারনের সময় নারীদের দেহে উচ্চহারে ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদন হয়। কিছু কিছু নারীর দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন রক্তকে ঘন করে ফেলে যার ফলে রক্ত জমাট বাধে।

৪. যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খায়
যৌনভাবে সক্রিয় অনেক নারীই শিগগিরই সন্তান নিতে চান না বলে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খান। কিন্তু এই বড়ি দেহে উচ্চহারে ইস্ট্রোজেন হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। যার কারণেও রক্ত জমাট বাধতে পারে।

৫. যাদের প্রদাহজনিত রোগ আছে
যারা হার্ট, ফুসফুস, কিডনি এবং এমন অন্যান্য অঙ্গের প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রক্তেও ওই প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপাদান প্রবেশ করে রক্তকে জমাট বাধাতে পারে।

৬. যাদের দেহে কোনো সংক্রমণ আছে
আপনার দেহের ভেতরের কোনো অঙ্গে যদি সংক্রমণ আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে যেই জীবাণুর কারণে আপনার ওই সংক্রমণ হয়েছে তা আপনার রক্তেও প্রবেশ করতে পারে। এবং আপনার রক্তকে শক্ত বা ঘন করে দিয়ে রক্ত জমাট বাধাতে পারে।

৭. যারা ডেস্ক জব করেন
আপনার যদি ডেস্ক জব থাকে এবং আপনাকে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় তাহলে আপনার রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি রয়েছে। কারণ দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে রক্তচলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং রক্তের কোষগুলো ঘন হয়ে আসে। যার ফলে রক্ত জমাট বেধে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

৮. বংশগতভাবে রক্তজমাট বাধার প্রবণতা
কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও রক্ত জমাট বাধতে পারে যেমন পারিবারিক উত্তরাধীকার। আপনার পূর্বসুরিদের কারো যদি রক্ত জমাট বাধার প্রবণতা থেকে থাকে তাহলে আপনারও একই সমস্যা হতে পারে।

৯. আগে কখনো রক্তজমাট বাধার নজির থাকলে
আপনার দেহে যদি আগে কখনো রক্ত জমাট বাধার ঘটনা ঘটে থাকে বা আপনি আগে রক্ত জমাট বাধার সমস্যায় ভুগেছেন এবং চিকিৎসাও নিয়েছেন তাহলে ফের আপনার একই সমস্যা হতে পারে। এবং আপনার হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *