মঙ্গলবার ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ || ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যার ২০ মাস: পরিবারকে ঢাকায় ডেকেছে সিআইডি

খবর২৪ডেস্ক
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু খুন হন গত বছরের ২০ মার্চ। ২০ নভেম্বর সোমবার তনু হত্যার ২০ মাস পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনও খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ২২ নভেম্বর বুধবার তনুর পরিবারকে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তনুর মা ২০ নভেম্বর সোমাবার রাতে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কুমিল্লা সিআইডি অফিস থেকে চিঠিটি তনুর পরিবারের কাছে আসে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চিঠিতে তনুর বাবা, মা, দুই ভাই ও চাচাতো বোনকে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছে।

তনুর মা এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসল আসামীদের আইনের আওতায় না এনে আমাদের বার বার হয়রানি করা হচ্ছে।
তনু হত্যা মামলাটি পুলিশ থেকে ডিবিতে তারপর সিআইডে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ থেকে তনু হত্যা মামলাটি প্রথমে গত বছরের ২৫ মার্চ ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর গত বছরের ৩০ মার্চ মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী তনু গত বছরের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুরের ১২ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের কোয়ার্টারে সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামানের মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতে যান। রাতে অলিপুরে পাওয়ার হাউসের জঙ্গলে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা ঘটনার পরের দিনই ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী ইয়ার আলী অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই দিন তনুর মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

৪ এপ্রিল সেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়। শুরু থেকেই ধর্ষণের সন্দেহ করা হলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাত, ধর্ষণের আলামতও মেলেনি। এ নিয়ে তখন দেশজুড়ে বিতর্ক ওঠে। তবে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ৩০ মার্চ লাশ উত্তোলন করে তনুর দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে তনুর পরনের কাপড়সহ সাতটি আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তবে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করতে পারেননি চিকিৎসকরা।

তারা বলেন, মৃত্যুর আগে তনুর ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু তা ধর্ষণ কি না-সে প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেননি তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *