শনিবার জানুয়ারি ২০, ২০১৮ || ৭ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ভুটানের জন্য আরও তিনটি স্থলবন্দর খুলে দেওয়া হবে

খবর২৪ডেস্ক

ভুটানের সঙ্গে স্থলপথে বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। বুড়িমারী স্থলবন্দর ছাড়াও ভুটানকে তামাবিল, বাংলাবান্ধা ও নাকুগাঁও স্থলবন্দর ব্যবহারে অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে শুধু বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য হয়।

এ ছাড়া নৌপথে রৌমারী-চিলমারী হয়ে আসাম দিয়ে ভুটানের পণ্য আনা-নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এসব বাণিজ্য পথের পাশাপাশি রেলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ চায় ভুটান। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রোহনপুর-সিংগাবাদ রেলরুটটি ব্যবহার করতে চায় দেশটি। বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে তাতে রাজিও হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভুটানের যৌথ শুল্ক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। ৭ ও ৮ নভেম্বর ভুটানের থিম্পুতে এই সভা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য খন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান ও ভুটানের রাজস্ব বিভাগের পরিচালক ইয়ুনতেন নামগিল নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বর্তমানে বুড়িমারী, বাংলাবান্ধা ও তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের সঙ্গে আমদানি–রপ্তানির অনুমোদন আছে। শুধু বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়েই পণ্য আনা–নেওয়া হয়। অন্য দুটি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয় না। যৌথ শুল্ক দলের সভা সূত্র অনুযায়ী, এবারের সভায় ওই স্থলবন্দরসহ নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমের আগ্রহ দেখিয়েছে ভুটান। ঢাকা থেকে নাকুগাঁও-ডালু (ভারত)-মেঘালয়ের তুরা-ভুটানের গেলাপু হয়ে ভুটান পর্যন্ত নতুন একটি রুট করতে চায় ভুটান। দেশটির পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ। বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে এই তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির ব্যাপারে রাজি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য ও এনবিআরের প্রথম সচিব এহতেশামুল হক  বলেন, এসব রুট চালু হলে দুই দেশের মধ্যে আমদানি–রপ্তানি বাড়বে। বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার হবে। এ জন্য স্থলবন্দরে পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের শুল্কায়ন, স্থলবন্দরে আসা–যাওয়া সহজে করতে পারে।

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল চুনাপাথরের গুঁড়া আমদানিতে জটিলতা নিরসন। বাংলাদেশে চুনাপাথর রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পায় ভুটান। কিন্তু সম্প্রতি চুনাপাথর গুঁড়া আমদানি করা হচ্ছে। এইচএস কোড ভিন্ন হওয়ায় এর ওপর শুল্ক আরোপ করার কথা জানান শুল্ক কর্মকর্তারা। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। যৌথ শুল্ক দলের সভায় এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়। ভুটানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত নভেম্বর মাসে দুই দেশের বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের সভায় এই শুল্ক উঠিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর শুল্ক উঠিয়ে দেওয়ার সারসংক্ষেপ তৈরি করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠায় এনবিআর। শিগগিরই এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে ভুটানকে আশ্বাস দেয় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল।

উল্লেখ্য, ভুটান থেকে বাংলাদেশে মোট রপ্তানির ৭-৮ শতাংশই হলো চুনাপাথরের গুঁড়া। সিমেন্টশিল্পে এটি ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ১৮টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় ভুটান।

এ ছাড়া যৌথ শুল্ক দলের সভায় উভয় পক্ষই একমত হয় যে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের আগের মাসের আমদানি-রপ্তানির সব তথ্য আদান–প্রদান করবে।

এই দুই দেশের বাণিজ্য এখনো ব্যাপকভাবে ভুটানের অনুকূলে। সর্বশেষ গত অর্থবছরে ভুটান থেকে ৩ কোটি ৩১ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অন্যতম হলো কমলা, দারুচিনি ও পাথর। গত অর্থবছরে ভুটান থেকে প্রায় ১ কোটি ডলারের কমলা এবং ৯১ লাখ ডলারের দারুচিনি আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে গত অর্থবছরে ভুটানে রপ্তানি হয় ৩২ লাখ ডলারের পণ্য। এর মধ্যে ৬ লাখ ডলারের পাউরুটি, বিস্কুট, কেক আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *