শনিবার নভেম্বর ১৮, ২০১৭ || ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শিশু আসিয়ার শোক হলুদ জামার, নুর মোহাম্মদের গরুতে

খবর২৪ডেস্ক
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর নিপীড়নে ৪ লাখ রোহিঙ্গা নিজেদের ভিটেমাটি ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তবে কেউই খালি হাতে আসছেন না, সবাই তার সবচেয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বস্তুটাই নিয়ে আসছে। যেমন ছোট্ট শিশু আসিয়া বিবি তার সাজগোজের জিনিস নিয়ে এসেছে, আবার কোনো কিছু বহনে অক্ষম নূর মোহাম্মদ পকেটে করে নিয়ে এসেছেন টাকা।

বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে কি ফেলে আসছে আর কি নিয়ে আসছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরে উঠে আসা রেহেনা বলেন, আমার সবকিছু গুছিয়ে নেয়ার জন্য দুই ঘণ্টা সময় পেয়েছিলাম। আমাদের বাড়িতে আগুন লাগানো হচ্ছিল। এই সময়ে রেহেনা তার ব্যাগে মুড়ি, টর্চ ও মায়ের মাথা ব্যথার তেলটা সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রেহেনা।

কিন্তু ছোট আসিয়া বিবির কাছে তার সাজগোজের জিনিসগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে তার ব্যাগে ফেসপাউডার, ফাউন্ডেশন, আইলাইনার, চুড়িসহ সাজগোজের জিনিসগুলোই গুছিয়ে নিয়ে এসেছে। আসিয়া বলে, আমি সাজতে খুব পছন্দ করি তাই এগুলো সাথে করে নিয়ে এসেছি।

এদিকে বৃদ্ধ নূর মোহাম্মদ পকেটে তার শেষ সম্বল টাকাগুলো নিয়ে চলে আসেন। তিনি বলেন, আমি বয়স্ক মানুষ, হাটতে সক্ষম নয়। তাই আমি টাকাগুলো নিয়ে চলে এসেছি।

রেহেনা বলেন, আমি দুঃসময়ে ব্যবহারের জন্য কিছু সোনা কিনেছিলাম। যখন উত্তেজিত জনতা বাড়িতে হামলা করে তখন আমি সোনা মাটির নিচে পুতে রেখে পালিয়ে এসেছি। এটা চিন্তা করে এখন আমার হৃদয় ভেঙে যায় যে আমি এখন খারাপ অবস্থায় আছি, কিন্ত সোনাগুলো আমার সঙ্গে নেই। কিভাবে আমি এখন টিকে থাকব?

ছোট আসিয়াকেও ফেলে আসতে হয়েছে তার প্রিয় হলুদ জামা। সে বলে, উত্তেজিত জনগণ সবাইকে হত্যা করছিল। ফলে আমি আমার প্রিয় হলুদ জামাটি সঙ্গে আনতে পারিনি। বৃদ্ধ নূর মোহাম্মদেরও মন পড়ে আছে রাখাইনেই। তিনি বলেন, আমি সেখানে সবকিছু ফেলে এসেছি। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল আমার গরু গুলো। আমি নিজের সন্তানের মত অনেক ভালোবাসা দিয়ে তাদের পালন করেছি। আমার সেগুলোর কথা খু্ব মনে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *