সোমবার সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ || ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

যে ৭টি অভ্যাস আপনাকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে সহজেই

খবর২৪ডেস্ক
কিছু সাধারণ ব্যপার থাকে যা কখনো কাউকে আলাদা করে শিখিয়ে দিতে হয় না। যেমন, অন্যের টুথব্রাশ আপনি কখনোই ব্যবহার করবেন না অথবা, আপনার নিজের পানি খাওয়ার গ্লাসে অন্যে কখনোই পানি খেতে দিবেন না! ঠিক একইভাবে এমন আরো কিছু ব্যপার থাকে যা কিনা আমাদের সকলের মেনে চলা উচিৎ, কিন্তু আমরা মেনে চলি না। আমরা হয়ত জানিও না যে, এই সকল অভ্যাস থেকে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারি। আজকের ফিচার থেকে জেনে নিন এমনই কিছু অভ্যাসের কথা যেগুলো পরিত্যাগ করা উচিৎ আজকে থেকেই।

১/ অন্যের লিপস্টিক এবং লিপগ্লস ব্যবহার করা
হয়তো আপনি ভুল করে আপনার লিপস্টিক বাসাতে ফেলে চলে এসেছেন। তাই অন্য কোন উপায় না দেখে আপনার বান্ধবীর লিপস্টিক ব্যবহার করছে। এটা খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। কিন্তু যতোই সাধারণ ঘটনা এটি হোক না কেনো, এমন ধরণের কাজ করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কতোটা ক্ষতিকর আপনার হয়তো ধারণাও নেই! হার্পিস এর মতো রোগ খুব সহজেই ছড়াতে পারে এইভাবে অন্যের লিপস্টিক অথবা লিপগ্লস ব্যবহার করলে। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তেমন কোন উপসর্গ দেখা দেয় না, অর্থাৎ র‍্যাশ দেখা দেয় না। কিন্তু তার মুখের মিউকাস এবং স্যালাইভাতে রোগের ভাইরাস থেকে যায়। তার লিপিস্টিক এবং লিপগ্লস ব্যবহারে সেই রোগের ভাইরাস আপনার কাছে চলে আসতে পারে খুব সহজেই। এবং জেনে রাখা ভালো, এখনও পর্যন্ত হার্পিস রোগের শতভাগ নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা আবিস্কৃত হয়নি।

২/ অন্যের হেডফোন অথবা ইয়ারফোন দিয়ে গান শোনা
প্রতিটি মানুষের কানের ভেতরের অংশে আলাদা এবং স্বতন্ত্র ব্যাক্টেরিয়াল ফ্লোরার সামঞ্জস্য থাকে। অন্যের ইয়ারফোন ব্যবহারের সময় অথবা আপনি নিজের ইয়ারফোন যখন আপনার বন্ধুকে ব্যবহার করতে দিচ্ছেন, তখন না জেনেই আপনি নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন। এতে করে অনেক সময় আপনার কানের ভেতরে ইনফেকশনের সৃষ্টি হতে পারে।

৩/ অন্যের চুলের ক্লিপ এবং কার্লার ব্যবহার করা
আমরা অনেকেই জানি যে, অন্যের চিরুনি ব্যবহার করা উচিৎ নয়। ঠিক একইভাবে অন্য কারোর ব্যবহৃত চুলের ক্লিপ অথবা চুল কার্ল করার কার্লারও ব্যবহার করা অনুচিত। চুলের গোড়া তথা মাথার তালুর সংস্পর্শে আসে এমন যে কোন ধরণের জিনিসই এড়িয়ে চলা বাধ্যতামূলক। কারণ এমন সকল পণ্য ব্যবহারে অন্যের মাথার ফাংগাস অথবা উকুন আপনার চুলেও চলে আসতে পারে খুব সহজেই।

৪/ অন্যের ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা
যদিও বলা হয়ে থাকে যে ডিওডরেন্টে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে, কিন্তু ডিওডোরেন্ট এর যে অংশটা ত্বকের সংস্পর্শে আসে সেটাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশী। শরীরে ঘামের গন্ধ তৈরিই হয় ব্যাকটেরিয়ার কারণে। তাই অন্যের ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের সময় এই ব্যপারটি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

৫/ অন্যের তোয়ালে এবং গামছা ব্যবহার করা
তোয়ালে এবং গামছা তৈরিই করা হয় এমনভাবে, যা মানুষের শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি শুষে নিতে পারে। যার ফলে একজনের ব্যবহৃত তোয়ালে এবং গামছা কখনোই অন্য আরেকজনের ব্যবহার করা উচিৎ নয়। আপনি হয়ত জানেনও না, আপনার যে আত্মীয় অথবা বন্ধুর ব্যবহৃত তোয়ালে অথবা গামছা থেকে আপনার চর্মরোগ হতে পারে, এটি খুবই সংক্রামক।

৬/ ত্বকের পরিচর্যাকারী জিনিসপত্র অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া বা করা
একজন মানুষের মুখের ত্বক সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর। আপনার মুখের রূপ চর্চার জন্য ব্যবহৃত ব্রাশ, ম্যাসাজ রোলার অথবা স্পেশাল স্পঞ্জ এবং এমন ধরণের কোন জিনিস কোনভাবেই অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক মুখের ত্বকে ব্রণের সমস্যা থাকে অথবা এলার্জির সমস্যা থাকে। যা কিনা খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। আপনার ব্যবহৃত জিনিস যদি এমন কেউ ব্যবহার করে থাকে, যার ত্বকের সমস্যা রয়েছে তবে সেক্ষেত্রে আপনার ত্বকেও সমস্যা দেখা দিতে শুরু করবে যদি আপনি সেই সকল জিনিস ব্যবহার করে থাকেন।

৭/ অন্যের মেনিকিউর কিট এবং মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার করা
নখের জন্যে টুইজার, নেইল ক্লিপার্স, এপিলেটর প্রভৃতি জিনিস এবং অবশ্য যেকোন ধরণের মেকআপ সামগ্রী অন্যেরাটা ব্যবহার করা থেকে এবং নিজের জিনিস অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেক সময় আমরা পরিচিত কারোর অথবা বান্ধবীর ফেইস পাউডার, তাদের পাউডার পাফ দিয়েই ব্যবহার করে থাকি। যা কিনা আমাদের ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *