বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ || ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সূর্য থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গোলা ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে

খবর২৪ডেস্ক
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পরপর ভয়ঙ্কর দু’টো বিস্ফোরণ হয়েছে সূর্যে। সেই প্রলয়ঙ্কর বিস্ফোরণের পর সূর্য থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে আগুনের গোলা।

গতকাল বৃহস্পতিবার আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ওশ্‌নিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর (এনওএএ) স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশান সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের পর সূর্যের শরীর থেকে বেরিয়ে এসেছে দু’টো সোলার ফ্লেয়ার বা সৌর ফুলকি। দ্বিতীয় সৌর ফুলকিটি অসম্ভব শক্তিশালী। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অতটা শক্তিশালী ফুলকি বেরিয়ে আসেনি সূর্যের শরীর থেকে।

এরা এতটাই শক্তিশালী যে সৌরবিজ্ঞানের পরিভাষায় এদের বলা হয় ‘এক্স’ পর্যায়ের সৌর ফুলকি। সূর্যের পিঠে যে বহু সৌর কলঙ্ক বা সান স্পট রয়েছে, তারই কোন একটি বা দু’টিতে ঘটেছে ওই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী বিস্ফোরণ। একটি ফুলকির নাম ‘এক্স-২.২’। অন্যটি ‘এক্স-৯.৩’। সান স্পটের বিস্ফোরণে ‘এক্স-৯’ পর্যায়ের এতটা শক্তিশালী আগুনের গোলা বা ফুলকি সূর্যকে শেষ উগরোতে দেখা গিয়েছিল আজ থেকে ঠিক ১১ বছর আগে। ২০০৬ সালে।

নাসা সূত্রের খবর, সূর্যে পরপর ওই দু’টি প্রলয়ঙ্কর বিস্ফোরণের পর যে বিশাল বিশাল গোলা বা ফুলকিগুলি বেরিয়ে এসেছে, তা ইতিমধ্যেই কাঁপিয়ে দিয়েছে মহাকাশের রেডিও তরঙ্গকে। শুধু কাঁপিয়ে দেওয়াই নয়, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সেই সৌর ফুলকি পৃথিবীর যে পিঠে তখন সূর্যের আলো পড়ছিল, সেই দিকের যাবতীয় রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্তও করে দিয়েছিল। নেভিগেশনের জন্য যে অত্যন্ত কম কম্পাঙ্কের আলো লাগে, তাকেও ঘণ্টাখানেকের জন্য অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছিল সেই সৌর ফুলকি।

নাসার পক্ষ থেকে সৌরপদার্থবিজ্ঞানী রব স্টিনবার্গ বলেছেন, সূর্যের পিঠে সবচেয়ে ভারী (ম্যাসিভ) যে দু’টি সান স্পট রয়েছে, তার মধ্যে যেটা তুলনায় ছোট, সেই সান স্পটেই ঘটেছে ওই প্রলয়ঙ্কর বিস্ফোরণ। সূর্যের সেই দু’টো এলাকার নাম- ‘অ্যাক্টিভ রিজিওন (এআর)-২৬৭৩’। এবং ‘অ্যাক্টিভ রিজিওন (এআর)-২৬৭৪’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *