বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ || ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পারফরম্যান্স এপ্রাইসাল কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার উপায় – সাইয়েদুল নাকিব

বার্ষিক মূল্যায়ন কর্পোরেট জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।কর্মী পছন্দ করুক বা না করুক, এটি হতে দূরে থাকা যায় না। পারফরম্যান্স লক্ষ্য সাধারণত বছরের শুরুতে নির্ধারণ করা হয়।যেই লক্ষ্যগুলির বিপরীতে পারফরম্যান্সগুলি পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন করা হয়।বছরের শেষ বা মূল্যায়ন সময়ের শেষে, কর্মীর পারফরম্যান্স ও সাফল্যের সাথে; বছরের শুরুতে  প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লক্ষ্যের মধ্যকার পার্থক্য মূল্যায়ন করা হয়।পারফরম্যান্স এপ্রাইসাল সভা কর্মীর ম্যানেজার এবং কর্মীর মধ্যে একটি দ্বিপথ যোগাযোগ। এতে  ব্যবস্থাপক দ্বারা লক্ষ্যযুক্ত বা প্রত্যাশিত কাজগুলির সাথে কর্মীর দক্ষতা, দুর্বলতা ও অর্জনের মধ্যকার তফাৎ ইত্যাদি আলোচনা হয়। তবে এখানে উভয়ই সুবিধাভোগী। তাই কর্মী এবং ব্যবস্থাপক উভয়ই কৌশলগতভাবে ভাববেন যেন তাদের মধ্যে কথোপকথন সফল এবং ফলপ্রসূ করতে উভয়ই কিভাবে অবদান রাখতে পারেন।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি যতটা সহজ দেখায় ততটা কিন্তু না! কারণ, আপনার দৃষ্টিতে যারা বছর ব্যাপী ভাল কাজ করেননি অথচ তারা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিজয়ী হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে। পক্ষান্তরে আপনি খুব ভাল কাজ করেও আকাঙ্খিত মূল্যায়ন পান নি। সুতরাং, কিভাবে আপনি আপনার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে মসৃণ এবং বছর ব্যাপী আপনার কর্মক্ষমতা এবং অর্জনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করার কিছু উপায় নিচে দেওয়া হলো:

১.  বেশ আগেভাগে পারফরম্যান্স এপ্রাইসাল সভার শিডিউল ঠিক করে ফেলুন

২.  পারফরম্যান্স এপ্রাইসাল সেশনের আলোচনার জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রস্তুত হয়ে যান

৩.             আপনার লক্ষ্যগুলি এবং লক্ষ্যগুলির সাথে সম্পর্কিত নিজের নোটগুলি এবং সফল প্রকল্পসমূহ, কৃতিত্ব এবং অর্জনসমূহের একটি সম্পূর্ণ তালিকা আনুন, যাতে ম্যানেজারের সাথে পর্যালোচনা করতে পারেন।এটি আপনার দাবিটি স্থাপন করা নিশ্চিত করবে এবং এবং আপনার পারফরম্যান্সের যোগ্যতা অনুসারে রেটিংটি পেতে সাহায্য করবে।

৪.  ম্যানেজার বা সুপারভাইজারের লিখিত মূল্যায়নের একটি অনুলিপি তার সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার পূর্বে আপনাকে প্রদানের জন্য অনুরোধ করুন।

৫.  লক্ষ্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হউন এবং এতে পর্যাপ্ত সময় দিন।

৬. নির্ধারিত লক্ষ্য গ্রহণ করার পূর্বে, এটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝে নিন।

৭.  লক্ষ্যগুলি অবিচ্ছিন্ন বা অযৌক্তিক মনে হলে, আপনার মতামত তুলে ধরুন।

৮. আপনার লক্ষ্য পরিমাপযোগ্য বা শুধু বিষয়ী কিনা তা নিশ্চিত করুন।

৯.  কাজ এবং কৃতিত্ব সমূহকে পরিমাপযোগ্য উপায়ে  প্রতিফলিত করুন।

১০. কৃতিত্বের রেকর্ডগুলি ঠিক যেমনটি ঘটেছে, অনুরূপ সংরক্ষন করুন।

১১. বর্তমান ভূমিকার বাইরে আপনি কি করেছেন, যা আপনার কোম্পানির জন্য তাত্পর্যপূর্ণ তার তালিকা রাখুন।

১২. প্রতি পনের দিনে আপনার অগ্রগতি নির্ণয় করুন ও প্রতি মাসে লক্ষ্য অর্জনের মূল্যায়ন করুন।

ইতিবাচক ভাবে আলোচনা শেষ করুন। সুপারভাইজারকে ধন্যবাদ দিন, আলোচনা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রশংসা করুন। আপনার শক্তির বিকাশের, নিজের উন্নতি ও প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের জন্য আরও ভাল অবদান রাখার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করুন। এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করতে আপনার ম্যানেজারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও অংশীদারিত্বের জন্য উন্মুক্ত থাকুন।

পারফরম্যান্স এপ্রাইসাল অধিবেশনের পরেও আপনার আরো কিছু করণীয়:

১. সুপারভাইজার থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে একটি সম্পূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করুন।

২. আপনার প্রয়োজন, লক্ষ্য এবং সময়সূচী নির্ধারণ করুন, যা আপনার উন্নয়ন পরিকল্পনাকে অনুসরণ করতে সাহায্য করবে।

৩. আপনি যদি একজন ভালো বক্তা হন এবং আপনার কোম্পানি যদি ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবে বৃহত্তর পরিসরে জনসংযোগ করে থাকে, তাহলে    আপনার নিজের প্রবৃদ্ধি ও  উন্নয়নকে কোম্পানির ব্যাবসায়িক কৌশলের সাথে সংযুক্ত করুন।

অবশেষে একটি ব্যাপক পরিধির কর্ম পরিকল্পনা তৈরী করুন, যা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এবং বাইরে আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার প্লানিংএ সাহায্য করবে।এখানে আপনাকে বর্তমান ভূমিকার পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার প্ল্যান এর দৃষ্টিতে নিজের সামর্থ ও দুর্বলতা সমূহকে বিবেচনায় রাখতে হবে।

সবিশেষ, নিজের পিঠ চাপড়ান এবং মহান কাজটির জন্য নিজেকে অভিনন্দন জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *