সোমবার সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ || ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ইফতারিতে থাক সফেদা

খবর২৪ডেস্ক
দিনের দৈর্ঘ্য এখনো বাড়ার ওপরই আছে। তাই দীর্ঘসময় ধরে সংযমের পর এমন দিনে ইফতারে চাই পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া না খাওয়াই ভালো। বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে ফলমূলে মনোযোগী হওয়া। তাই রমজানজুড়ে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ। আজ থাকছে সফেদা
ফাইবার
সফেদায় রয়েছে উচ্চমাত্রার ভক্ষণযোগ্য ফাইবার। কাজেই হজমে সহায়ক এই ফল। কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে খুবই কাজের। বলা হয়, সফেদায় এক চিমটি লবণ দিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকবে না। দিনের প্রয়োজনীয় ১০০ গ্রাম ফাইবারের ৫.৬ গ্রামই মিলতে পারে সফেদায়।

কোলন ক্যান্সার
সফেদায় রয়েছে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণ। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সফেদা খেলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।

হেমারয়েডস ও ডায়রিয়া
এই ফলে রয়েছে এক জাদুকরী অর্গানিক উপাদান ট্যানিন। এই উপাদানের রয়েছে ওষুধি গুণ। হেমারয়েড এবং ডায়রিয়ার মতো রোগ সামলাতে কার্যকর।

ভিটামিন
সফেদায় মেলে ভিটামিন এ ও সি। সবাই জানে, দৃষ্টিশক্তির জন্য ভিটামিন ‘এ’ কত জরুরি! ত্বকের স্বাস্থ্য ও মিউকাস মেমব্রেন নিয়ন্ত্রণেও দরকার এই ভিটামিন। সফেদা খেলে মুখের রোগ ও ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে। আর ভিটামিন ‘সি’ দেহ থেকে বিষাক্ত উপাদান দূর করে। সেই সঙ্গে সব জীবাণুর সংক্রমণ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়।

ব্যথা
শুধু ফল হিসেবে নয়, সফেদার পাতাও কিন্তু পথ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। দেহের প্রদাহ ও ব্যথাজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় সফেদার পাতা। পরিষ্কার কয়েকটি পাতা পানিতে ১০ মিনিট ধরে গরম করুন। এই পানিই কিন্তু ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে গড়গড়া করলে গলার ব্যথা চলে যাবে। আবার সফেদার ঘন আঠালো যে উপাদান থাকে, তা দাঁতের ক্ষয় সারাতেও কাজ করে।

রক্তপাত
সফেদার এক অনন্য গুণ হলো রক্তপাত বন্ধের ক্ষমতা। আঘাত, পাইলস বা অন্য কোনো কারণে রক্তপাত বন্ধে সফেদা দারুণ প্রাকৃতিক সমাধান।

সংক্রমণ
কম বা বেশি—সংক্রমণটা যেমনই হোক, প্রতিরোধে সফেদা ব্যাপক কাজের। সংক্রমণের মাত্রা হ্রাসেও ওস্তাত সফেদা। দেহের মাঝে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এই ফল। দেহের অভ্যন্তরের প্রদাহ ও ব্যথা নিরাময়েও উপকারী।

খনিজ
পটাশিয়াম, কপার অথবা আয়রনের মতো উপকারী খনিজের উৎস এই ফল। এতে আছে ফোলিয়েট আর নিয়াসিন এসিড। দেহকে আরো শক্তিশালী আর প্রাচুর্যপূর্ণ করতে এসব ভিটামিন আর খনিজের বিকল্প নেই।

স্নায়ুতন্ত্র
সফেদাকে কিন্তু প্রশান্তিদায়ক এক উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি দেহের স্নায়ুতন্ত্রকে ধীরস্থির করে আরাম এনে দেয়। মানসিক চাপও দূর করে। কাজেই যারা ইনসমনিয়া ও প্যানিক ডিসঅর্ডারের মতো রোগে ভুগছে, তারা ভরসা আনতে পারে সফেদায়।

সর্দি-জ্বর
সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে থাকলে মুক্তি দেয় সফেদা। যাদের দীর্ঘদিন ধরে বুকে কফ জমে রয়েছে, তারাও সফেদা থেকে উপকার পাবে।

সাবধানতা
আগেই বলা হয়েছে, এতে রয়েছে ট্যানিস আর আঠালো এক উপাদান। কাঁচা অবস্থায় এরা ফলটিকে তীব্র তিক্ত করে তোলে। তাই কাঁচা খেলে মুখে আলসার ও চুলকানি ভাব দেখা দেয়। হতে পারে শ্বাসকষ্টও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *