শনিবার জুন ২৪, ২০১৭ || ১০ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন হচ্ছে

খবর২৪ডেস্ক
নকল ও ভেজাল ওষুধ বন্ধসহ ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি আরো জানান, প্রস্তাবিত আইনটি বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি আরো জানান, দেশে লাইসেন্সবিহীন ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গকারী ফার্মেসি এবং নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ, আন-রেজিস্টার্ড ও অবৈধ ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত ওষুধের নকল বা ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে লাইসেন্সবিহীন ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গকারী ফার্মেসি এবং নকল, ভেজাল ও অবৈধ ওষুধ প্রস্তুতকারী, বিক্রয়কারী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সরকার জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও ওষুধ তত্ত্বাবধায়ককে সদস্যসচিব করে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি বা সেক্রেটারির সমন্বয়ে সকল জেলার জন্য কার্যকরী ‘জেলা ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অ্যাকশন কমিটি’ গঠন করেছে। ওই কমিটি ওষুধের অনিয়ম সংক্রান্ত সকল বিষয়ে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

মোহাম্মদ নাসিম জানান, বর্তমান সরকার ভেজাল, নকল ও মানহীন ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের বিভাগীয় শহরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মডেল ফার্মেসি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ১৭৫টি ফার্মেসিকে মডেল ফার্মেসি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, মডেল ফার্মেসি থেকে জনগণ মানসম্মত ওষুধ কেনার পাশাপাশি ওষুধের ব্যবহারবিধি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে। দেশব্যাপী মডেল ফার্মেসি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের সহায়তায় ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, নকল ওষুধ চিহ্নিতকরণ এবং ওষুধের নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্যে বিক্রয়ের বিষয়ে অনলাইন ভিত্তিক রিপোর্টিংয়ের জন্য ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শীর্ষক একটি প্রকল্পের কার্যক্রম বর্তমানে পাইলটিং পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে জনগণ ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিষয়ে রিপোর্ট করতে পারবে, ওষুধের নির্ধারিত মূল্য যাচাই করা সম্ভব হবে, দেশে যেকোনো এলাকায় প্রাপ্ত ভেজাল ও নকল ওষুধ সম্পর্কে স্বল্প সময়ে নিশ্চিত হতে পারবে এবং ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত দাখিল করতে পারবে। এ ছাড়া ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধির ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুলালাহর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের সকল উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাপ্তি সাপেক্ষে তালা ও কলারোয়া উপজেলাসহ সকল উপজেলায় প্রয়োজনীয় অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হবে।

জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতিসংঘের এমডিজি-৪ ও ৫ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সর্বাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার এ খাতে এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি আরো জানান, এমডিজি ৪ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমে শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যে সব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সেগুলো যথার্থ হওয়ায় এবং ইতিমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে শিশু মৃত্যুহার কাঙ্ক্ষিত হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালের জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশ পুরস্কৃত হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ শিশু তহবিল শিশু মৃত্যুহার ১৯৯০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে দুই তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, বাংলাদেশ সে লক্ষ্যমাত্রার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রতি ৬ হাজার জনের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১৩ হাজার ৪ শ’টি কমিউনিটি ক্লিনিকে চালু করা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ১৩ হাজার ১৫ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এবং ৩৪ জন অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

একই প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম জানান, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার’ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ই-হেলথ কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রীকে ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট পুরস্কার প্রদান করেছে। আর গাইবান্ধা জেলায় যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের এমপাওয়ার এবং এমআইএস- স্বাস্থ্য কর্তৃক চালুকৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাতৃসেবা প্রদানের একটি প্রকল্প সমপ্রতি জাতিসংঘ ফাউন্ডেশন ফর মোবাইল হেলফ অ্যালায়েন্স কর্তৃক বিশ্বের ১১টি শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনার একটি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এ ছাড়া ই-হেলথ যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ মন্থন পুরস্কার লাভ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *