শুক্রবার জুলাই ২১, ২০১৭ || ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে মাঠে ১০ হাজার মেডিক্যাল শিক্ষার্থী

খবর২৪ডেস্ক
চিকনগুনিয়া প্রতিরোধের অংশ হিসাবে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংসে এবার সম্পৃক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে।

আজ শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, সব ধরনের প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ম্যাটস্) এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থীরা চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে মহানগরীতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস ও জনসচেতনা সৃষ্টিতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়।

শুভ্রতার প্রতীক সাদা অ্যাপ্রোন পরিহিত মেডিকেল শিক্ষার্থীরা মহানগরীর ৯২টি এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে এ অভিযান চলিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাওয়া বিলম্বিত করে এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

শনিবার সকালে ধানমন্ডিতে মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস ও জনসচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই সাঁড়াশি অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

এ সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডি জেনারেল ডা. শেখ সালাহউদ্দিন, বিশিষ্ট কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর গত ১ থেকে ৫ জুন মহানগরীর ৪৭টি ওয়ার্ডে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র বিষয়ে একটি জরিপ চালায়। জরিপে দেখা যায় ২৩টি ওয়ার্ডে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক উঁচু মাত্রায় এডিস মশা রয়েছে। ব্রুটো ইনডেক্স ২০ হলো স্বাভাবিক মাত্রা। কিন্তু, ৪৭টি ওয়ার্ডের গড় ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া যায় ৫২, যা স্বাভাবিকের চেয়েও দুই গুণেরও বেশি। কোনো কোনো এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ১৩৩। যেমন-ধানমন্ডি, কলাবাগান ও কাঁঠালবাগান।

অভিযানকালে নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত ও ধ্বংস, মোটরযান মেরামতের দোকানগুলোতে গিয়ে পুরনো টায়ার থেকে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস এবং সেগুলোতে যাতে পানি জমতে না পারে সেজন্য পুরনো টায়ারগুলো ফুটো করা, আবর্জনার ভাগাড়গুলোতে মশা প্রজনন স্থল, যেমন পরিত্যক্ত ডাবের খোসা অপসারণ এবং বাসাবাড়ির ভেতর এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়।

একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সচেতন করা ও চিকুনগুনিয়া রোগের জরিপ করার উদ্দেশে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এজন্য নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে আগে থেকেই মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সানিয়া তহমিন জানান, মশক নিধন কার্যক্রমে রাজধানীর ৯২টি স্পটে কমপক্ষে ১০ হাজারের বেশি চিকিৎসক ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *