শুক্রবার জুন ২৩, ২০১৭ || ৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রোজা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী যে কারণে

খবর২৪ডেস্ক
রমজান মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আশীর্বাদের মাস। এই একমাস তারা রোজা রাখেন এবং ধর্মীয় কাজে মনযোগী হন। কিন্তু রোজার ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্বও আছে। রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের উপর যে উপকারী প্রভাব পড়ে সে বিষয়ে জানবো আজকের ফিচারে।

ওজন কমে:
রোজা রাখা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়। তবে ২০০৮ এর সেপ্টেম্বরে দ্যা ওয়াশিংটন পোষ্ট এর একটি আর্টিকেল এ উল্লেখ করা হয়েছিলো যে, তেহরান এর ডায়েট চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত ওজনের মানুষদের তাদের ওজন কমানোর লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে রোজার মাসকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই খাওয়ার উৎসব শুরু করে দেয়া যেমন- মিষ্টি ও ফ্যাটি ফুড খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়। ইফতারিতে স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- খেজুর, স্যুপ, ফ্রেস ব্রেড ও গোট চিজ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার রোজার সময় খাওয়াই যায়, তবে ওজন কমানোর জন্য চিনি, সসেজ ইত্যাদি বাদ দিয়ে খাওয়া উচিৎ।

রক্তে চিনির পরিমাণ কমে:
যখন আপনি দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে কাটাবেন তখন আপনার রক্তের চিনির মাত্রা কমে যাবে। ২০১০ এর ‘আরব নিউজ’ এ প্রকাশিত এক আর্টিকেলে যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক ডা. রাজিন মারুফ বলেন, আপনি যখন রোজা রাখেন তখন শক্তির জন্য আপনার শরীরে সঞ্চিত গ্লুকোজ ব্যবহার হতে থাকে। ডায়াবেটিসের রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু যাদের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকে ডায়াবেটিস হওয়া ছাড়াই তারা এই প্রক্রিয়ায় উপকৃত হতে পারেন।

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস শিক্ষা:
প্রতিদিন প্রচুর চিনি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস যদি আপনার থাকে তাহলে আপনার এই অভ্যাসকে দূর করার জন্য রোজার মাস উপযুক্ত সময়। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে আপনার এমন খাবার পছন্দ করা উচিৎ যা শরীরে খুব ধীরে ধীরে গ্লুকোজে পরিবর্তিত হবে, যেমন- আস্ত শস্য ও উচ্চ মাত্রার ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে। এই পরিবর্তনের দ্বিমুখী উপকারিতা আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যা পুষ্টি সমৃদ্ধ কিন্তু ক্যালোরি কম। অন্য উপকারিতাটি হচ্ছে আপনি যখন রোজা রাখবেন তখন কম ক্ষুধার্ত অনুভব করবেন। যে খাবারগুলো গ্লুকোজে পরিণত হতে সময় নেয় সেগুলো আপনাকে অনেকক্ষণ শক্তি যোগাবে এবং ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রণে থাকতে সাহায্য করবে।

অন্যান্য উপকারিতা:
রোজার সময়ে আপনি আপনার শরীরের চর্বি কমাতে পারেন। ফলে আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমবে। এটি সম্ভব করার জন্য আপনাকে সন্ধ্যার সময় উচ্চমাত্রার চর্বিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর চর্বিহীন প্রোটিন এবং নন-ফ্রায়েড ডিশ খেতে হবে। কারণ আপনাকে দীর্ঘ সময় উপবাসে থাকতে হয়, তাই আপনার কম সোডিয়াম গ্রহণ করা উচিৎ, যা আপনার রক্তচাপ কমতে সাহায্য করবে।

২০১০ এ নিউট্রিশন জার্নালের এক রিভিউতে বলা হয় যে, সাধারণ ঐকমত হচ্ছে রমজান মাসে রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না, যদিনা রাতের বেলায় খুব বেশি ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করা হয়। রোজা রেখে সুস্থ থাকার জন্য কম চর্বির মাংস গ্রহণ করুন।

সূত্র: লাইভ স্ট্রং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *