শনিবার জুন ২৪, ২০১৭ || ১০ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

১৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান

খবর২৪ডেস্ক
২০১৪ ও ২০১৫ এই দুই বছরে দেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৪ লাখ মানুষের। এরমধ্যে অবশ্য আট লাখ নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। বাকি ছয় লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে পুরুষের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ‘শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬’ এ তথ্য উঠে এসেছে।

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন মিলনায়তনে শ্রমশক্তি জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজ্জামেল হক, বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুদরত ই খোদা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদর সদস্য ড.রুশিদান ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইন্ডাস্ট্রি এন্ড লেবার উইং এর প্রধান ঘোষ সুব্রত। মূল প্রতিবেদন তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক কবীর হোসেন।

সেমিনারে শ্রমশক্তি জরিপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এখন বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ। ২০১৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপেও বেকারের সংখ্যা একই ছিল। বেকারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যদি এক ঘণ্টার জন্য কাজ না করে থাকে এবং এক মাসে কাজ খুঁজে থাকে কিন্তু কাজ না পেয়ে থাকে, তাকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়। আর ১৫ বছরের তদূর্ধ্ব কোনো ব্যক্তি এক সপ্তাহে এক ঘণ্টার জন্য হলেও মজুরির বিনিময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে তাকে কর্মক্ষম ধরা হয়।

শ্রমশক্তি জরিপে বিবিএস বলেছে, গত দুই বছরে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে পুরষের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। দুই বছরে শ্রমবাজারে পুরষের অংশগ্রহণ তেমন বাড়েনি, যতটা বেড়েছে নারীর। এছাড়া তরুণদের বড় একটি অংশ বেকার বসে আছে। অথচ বাংলাদেশ জনসংখ্যার বোনাসকাল ভোগ করছে। যারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত তাদের মধ্যে বেকারের হার বেশি। এর পেছনে যুক্তি তুলে ধরে কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত মানের চাকুরি পাচ্ছে না। পছন্দমতো চাকুরি না পাওয়ার কারণে বসে আছে। সে কারণে তারা বেকারের মধ্যে পড়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, দেশে এখন ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে কর্মক্ষম জনসংখ্যা ১০ কোটি ৬১ লাখ। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ মানুষ। ২৬ লাখ বেকার। আর বাকি চার কোটি ৪০ লাখ মানুষ এখনো শ্রমশক্তির বাইরে রয়েছে। বিবিএস বলেছে, অর্থনীতিকে বিকশিত করতে এবং মোট দেশজ উত্পাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *